হতাশা থেকে মুক্তির সেরা ১০টি উপায়

শেয়ার করুন

হতাশা, হ্যাঁ হতাশা হলো এমন একটি শব্দ যার সাথে আমরা সবচাইতে বেশি পরিচিত কারণ প্রতিদিন আমাদের নানা কারণে হতাশা সম্মুখীন হতে হয়। পরিস্থিতিভেদে হয়তোবা হতাশার পরিমাণ কম-বেশী হতে পারে তবে হতাশা যে আমাদের সকলের মধ্যেই আছে সেটাও সত্য। একজন শতভাগ সফল মানুষের মাঝেও কাজ করতে পারে হতাশা। হতাশা এমন একটি ক্ষতিকারক অনুভূতি যার ক্ষতির পরিমাণ অপরিসীম, এমনকি এটি মানুষকে আত্মহত্যা পর্যন্ত ঠেলে দিতে পারে।

তাহলে কি আত্মহত্যা থেকে বের হয়ে আসার কোন উপায় নেই? উপায়তো আছে বটেই, এবং চেষ্টা করলে খুব সহজেই একজন মানুষ হতাশা থেকে মুক্তি পেতে পারে। আমরা অনেক কারনেই হতাশার সম্মুখীন হই। এটা হতে পারে আমার পড়াশোনা নিয়ে, চাকুরী নিয়ে, ব্যবসায় নিয়ে, পারিবারিক ভাবে ইত্যাদি। কিন্তু আপনি আমাকে এই হতাশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি আজকে আপনাদের এমন কিছু বিষয় শেয়ার করব যে গুলো আপনাকে হতাশা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করবে। তো চলুন দেখা যাব দেখা যাক হতাশা থেকে মুক্তির সেরা ১০টি উপায়ঃ

 

১. কাজে ডুবে থাকুনঃ

কাজ এমন একটি জিনিশ যা আপনাকে ভুলিয়ে দিতে পারে হতাশ মূহুর্তগুলো , এমনকি একবার কাজে ডুবে গেলে সেটি হতে পারে আপনার জীবনে সফল হবার একটি চাবি এবং এরই সাথে  ভুলিয়ে দিতে পারে আপনার হতাশাগুলো।

 

২. ঘুরে বেড়ানঃ

ঘুড়তে কে না পছন্দ করে? আর ঘুরে বেড়ানোর মাধ্যমে যেমন উপভোগ করতে পারবেন নতুন নতুন প্রকৃতি এবং দৃশ্য তার সাথে কেটে যেতে পারে মনের অস্থিরতা। আগে বাংলাদেশে ঘুড়ে বেড়ানোর মত প্রাকৃতিক পরিবেশের অপ্রতুলতা থাকলেও এখন দিন দিন আরো নতুন ট্যুরিস্ট স্পট আবিষ্কার হচ্ছে যেখানে একবার ঘুড়ে আসলে মুছে যেতে পারে আপনার মনের হতাশা।

৩. পছন্দের গান শুনুনঃ

বলা হয়ে থাকে গান হলো সবচাইতে সহজ মাইন্ড রিলাক্সিং মেডিসিনগুলোর মধ্যে একটি। আপনার পছন্দের গান শুনুন তবে চেষ্টা করবেন হতাশার গানগুলো এড়িয়ে চলতে। ইন্টারনেটে বহু ধরণের গানের খোঁজ পাবেন আপনি যা শুনলে মূহুর্তেই আপনার ঠোঁটের কোনে ফুটে উঠবে মুচকি হাসি। আর কেটে যাবে আপনার হতাশা। চাইলে বিভিন্ন যন্ত্রসঙ্গীতও শুনতে পারেন যেগুলো কমিয়ে দিবে মনের অস্থিরতা।

 

৪. ব্যায়াম করুনঃ

নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে। বলা হয়ে থাকে যে একজন সুস্থ সবল মানুষের মনে হতাশা বাসা বাঁধতে পারেনা, আর সুস্থ সবল থাকবার জন্য পর্যাপ্ত খাবারের পাশাপাশি করতে হবে নিয়মিত ব্যায়াম, নয়তো আবার অতিরিক্ত ভুঁড়িভোজের ফলে পেটের ভেতর থেকে একটা ভুঁড়িও বের হয়ে আসতে পারে কিন্তু।

 

আরো পড়ুনঃ জীবনে যে কোন কিছু অর্জন করার ১০টি সেরা উপায়

 

৫. নিয়মিত পছন্দের খাবার গ্রহণ করুনঃ

সত্যি বলতে এই পৃথিবীতে খুব কম মানুষই রয়েছে যাদের পছন্দের খাবার খেলে মনে আনন্দ হয়না। পছন্দের খাদ্যগ্রহণের ফলে মনের ভেতরে যে আনন্দ কাজ করে সেটি দূরে করে দিতে পারে আপনার হতাশা।

 

৬. বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোঃ

বন্ধু ছাড়া মনে নির্মল আনন্দ লাভ করা সত্যিই খুব কঠিন। রুপলালের গল্পটি জানা আছে নিশ্চই? হতাশার মধ্যে বাস করার ফলে  একা একা বনে বাস করতে চলে যায় সে, অতঃপর একজন একজন করে বাড়তে বাড়তে শেষে বনের মাঝেই তার একটি বড় পরিবার তৈরি হয়ে যায়। তাই হতাশা কখনোই একা একা দূর করার চেষ্টা করা উচিৎ নয়। বরঞ্চ অনেক মানুষের মাঝে থেকে হাসি-আনন্দের মাঝে চেষ্টা করতে হবে হতাশাকে দূরে ঠেলে দেবার।

৭. বই পড়ুনঃ

মানুষের সবচাইতে উপকারী বন্ধুর মাঝে বইকে অন্যতম ধরা হয়। বই এমন একটি জিনিশ যা আপনার প্রবল দুঃসময়ের মাঝেও আপনাকে ছেড়ে যাবেনা, বরঞ্চ নিপাট বন্ধু হিসেবে আপনার পাশে থেকেই সাহায্য করবে হতাশা থেকে দূরে সরে আসার। আপনিও বিভিন্ন অনুপ্রেরণাদায়ী বই পড়ে নিজের হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেন খুব সহজে।

 

৮. ফুলের বাগান করুনঃ

ফুল দেখলে মন ভালো হয়ে যায়না এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছে। ফুলের মাতাল করা সুবাস আর বিভিন্ন রঙয়ের বাহারী ফুল দেখে সব বয়সী মানুষের মন আনন্দে ভরে যেতে বাধ্য।আর একজন হতাশাগ্রস্থ মানুষ পারে সেই ফুল গাছের বাগান তৈরি করে অন্যকে আনন্দ দিতে এবং তার সাথে নিজেও নির্মল আনন্দ লাভ করতে এতে করে হতাশা কখন পালিয়ে যাবে তা সেই হতাশাগ্রস্থ ব্যাক্তি হয়তো নিজেও টের পাবেননা।

 

৯. স্বেচ্ছাসেবীর কাজ করুনঃ

আমাদের চারপাশে অনেক গরীব দুঃখী মানুষ আছেন, আর তাদের উন্নয়নের জন্য অনেক স্বেচ্ছাসেবী দল কাজ করে যাচ্ছে।আপনি যদি একজন হতাশাগ্রস্থ ব্যাক্তি হন তবে আপনি তাদের সাথে যোগ দিয়ে দেখতে পারেন। তাহলে আপনার চোখের সামনে ফুটে উঠবে আপনার চাইতেও অনেক বেশী দুঃখী এবং হতাশাগ্রস্থ মানুষ রয়েছে যার তুলনায় আপনার হতাশার কারণগুলো খুবই নগণ্য। এতে করে যেমন আপনার উপলদ্ধি হবে তেমনি তাদের জন্য কোন কাজ করতে পারলে আপনার মনের ভেতর একধরণের আনন্দ কাজ করবে।

১০. খেলাধুলা করুনঃ

নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে আপনি হতাশা থেকে খুব সহজেই মুক্তি লাভ করতে পারেন। ক্রিকেট , ফুটবল, ব্যাডমিন্টনসহ নানা ধরণের খেলাধুলার সুযোগ রয়েছে আমাদের দেশে। এসব আউটডোর খেলায় যোদ দেওয়া সম্ভব না হলে বিভিন্ন ইনডোর গেম যেমন ক্যারম,লুডু,দাবা ইত্যাদি খেলাতেও ব্যাস্ত রাখতে পারেন নিজেকে।

উপরোক্ত ১০টি উপায় ছাড়াও রয়েছে আরো অনেক উপায় যার মাধ্যমে আপনি মুক্তি পেতে পারেন হতাশা থেকে। তবে সবার আগে এটি বিশ্বাস রাখতে হবে যে আপনার হতাশা থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারেন একমাত্র আপনি নিজেই। তাই নিজের উপর শতভাগ বিশ্বাস রাখুন। চোখ বন্ধ করে বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে নিজেকে নিজেই বলুন আমি পারবো। একবার যদি আপনার মন বিশ্বাস করে ফেলে আপনি পারবেন তাহলে হতাশা পালিয়ে যাওয়ার পথ তো পাবেইনা বরং কখনো ফিরে আসবার কথা চিন্তাও করবেনা।


শেয়ার করুন

Leave a Comment