বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিন এর জীবন বদলে দেয়া ১৩টি নীতি

শেয়ার করুন

আপনার জীবনে কোনটি কতটুকু গুরুত্ব বহন করে তা নির্ধারণ করছেন কী করে? মূল্যবোধ আর নীতিনৈতিকতা কতুটুকু কী পরিমাণে প্রয়োজন সেটাই বা নিশ্চিত হচ্ছেন কীভাবে? বিশ্বায়নের যুগে আমরা প্রতিমিনিটে এমন সব তথ্য পাই যা আমাদের আরও হতবুদ্ধিকর অবস্থায় ফেলে দেয়। এর মাধ্যমে আমাদের সংবাদ গ্রহণ করা ও ধারণ করার ধরণও বদলে যায়। আমাদের চিন্তা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার দরুণ আমরা গুরুত্বপূর্ণ আর অগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও গুলিয়ে ফেলি। এই অবস্থায় আপনার জন্য উচিত হবে অযাচিত বিষয়গুলো এড়িয়ে চলে যেগুলো আপনার জীবনে আসলেই গুরুত্বপূর্ণ তা নির্দিষ্ট করা। এক্ষেত্রে আমরা বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিনের দারস্থ হতেই পারি।

সংযমঃ

পুঁজিবাদের ফাঁদে পড়ে আছি আমরা জেনে বা না জেনে। চারিদিকে ভোগবিলাসের যথেচ্ছাচার। এর মধ্যে কতটুকু সংযমী হওয়া সম্ভব ভেবে দেখেছেন কি? সংযম একটি চারিত্রিক গুণ। এটি অর্জন করতে হয় অনুশীলনের মাধ্যমে। কেউ কেউ কিন্তু ঠিকই এই গুণটির অনুশীলন করে যাচ্ছেন। তাই যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই ব্যবহার করার চেষ্টা করা উচিত। এতে আপনি বিবেকের কাছেও পরিষ্কার থাকতে পারবেন।

নীরবতাঃ

অনেকেই আছেন যারা মাত্রাতিরিক্ত কথা বলতে ভালোবাসেন। কিন্তু, একটিবার ভেবে দেখুন, এতে আপনি অন্যের বিরাগভাজন হচ্ছেন। নিজের ঝুলিটি কেবল সংখ্যা দিয়ে পূর্ণ না করে মান দিয়ে পূর্ণ করুন। কথা বলার আগে খেয়াল করুন, বিষয়টি সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন। যতটুকু জানেন ততটুকু কি যথেষ্ট? শুধু বলার জন্য বলে অন্যের বিরক্তি উৎপাদন করা থেকে বিরত থাকুন। নীরব থাকুন। বোঝার চেষ্টা করুন আপনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা।

 

আরো পড়ুনঃ স্বপ্নকে সত্যি করুন ৬টি পন্থা অবলম্বন করে

 

সুশৃঙ্খলতাঃ

সবকিছু গুছিয়ে রাখুন। আপনার ব্যবহার্য জিনিস থেকে তথ্যাদি পর্যন্ত সবকিছু যথাযথভাবে রাখুন। প্রতিনিয়ত পাওয়া অসংখ্য তথ্যগুলোর মধ্যে যেগুলো প্রয়োজন সেগুলো সাজিয়ে রাখুন। বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিন যদি আজ বেঁচে থাকতেন তবে আমাদের ক্রমবর্ধমান জিনিসপত্র দেখে নিশ্চয়ই বিস্মিত হয়ে যেতেন।

সমাধানঃ

যে সমস্যাটি সমাধান করা দরকার কেবল সেটাই করুন। এরপর অন্যগুলোর দিকে যান। একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগুতে থাকুন। একটা পিরামিড বানান। বেশি গুরুত্বপূর্ণ থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তালিকাবদ্ধ করুন। তারপর একেকটা শেষ করে তার সামনে ক্রস চিহ্ন দিয়ে রাখুন। একবারে একটা লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করুন।

অজুহাত দেয়া মানুষগুলো প্রায়শই ব্যর্থ হয়।
—-বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিন

মিতব্যয়িতাঃ

খরুচে স্বভাব বাদ দিন। অযাচিত খরচ করবেন না। মিতব্যয়িতাকে আপনার অভ্যাসে বদলে দিন। এই সময়ে সবাই বিলাসবহুল জীবন যাপন করতে চায়। আপনি স্রোতের বিপরীতে চলে দেখুন। নিজেকে শক্তিশালী আর আত্মবিশ্বাসী মনে হবে। এতে মজা পাবেন আপনি। এটা একটা খেলার মতন। তবে অন্যকে সাহায্য করার বেলায় আবার মিতব্যয়ী হতে যাবেন না। এর মাধ্যমে আপনি কঠিন সময়কে হারিয়ে দেয়ার যোগ্যতাও অর্জন করতে পারবেন। কীভাবে খরচ কমানো যায় এ সংক্রান্ত বহু লেখা পাবেন আপনি। এ থেকে বেছে নিতে পারেন নিজের জীবনের সাথে মিলিয়ে।

পরিশ্রমঃ

সময়কে কাজে লাগান। প্রয়োজনহীন বিষয়ে সময় নষ্ট না করে তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করে যান। অকাজে ব্যস্ত না থেকে উৎপাদনশীল কাজ করার চেষ্টা করুন। এতে সাফল্য পাওয়া যাবে। সবসময় অপ্রয়োজনীয় বিষয় থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

 

আরো পড়ুনঃ নেতিবাচক চিন্তা দূর করার উপায় – থাকুন চিন্তা মুক্ত

 

আন্তরিকতাঃ

সরল ও যুক্তিযুক্তভাবে চিন্তা করুন। আর বলার সময় সঠিকভাবে বলুন। চিন্তা-ভাবনা কথা ও কাজে সততা থাকলে তা যেমন নিজেকে সুখী রাখবে ঠিক তেমনি আশেপাশের সবাইকেও প্রভাবিত করবে। মাঝে মাঝে আমরা সত্য বলা থেকে বিরত থাকি। কারণ, অন্যকে কষ্ট দিতে চাই না। কিন্তু সেই কষ্টটুকু হয়ত সে মানুষটাকে আরও বড় কোনও কষ্টের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে। আর অসত্য বলে নিজেকে কষ্ট দেয়ারও কোনও মানে নেই। এতে বরং বিষয়টা আরও জটিলতার দিকে মোড় নেবে।

অপক্ষপাতঃ

কারও উপর কখনও পক্ষপাত করা ঠিক না। যদি অন্যের সাথে এমন আচরণ করা হয় তবে নিজের সাথেও এমন হবে। কারণ, মানুষ তার কৃতকর্মের ফলাফল ভোগ করবে, সে যেখানেই হোক না কেন। কারও প্রতি রুষ্ট হওয়া উচিত নয়।

ধৈর্যঃ

অতিরিক্ত কোনও কিছুই ভালো নয়। অতিরিক্ত চিন্তা করা থেকেও দূরে থাকা উচিত। কোনও কিছু নিয়ে অতিরিক্ত মগ্নতাও সুখকর নয়। ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন করলে দেখবেন চ্যালেঞ্জ নেয়া সহজ হয়ে গেছে।

কেউ কেউ ২৫ বছরে মারা গেলেও ৭৫ বছর পর্যন্ত সমাধিস্ত হয় না।
—- বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিন

পরিচ্ছন্নতাঃ

ভিতরটা পরিচ্ছন্ন হলে তা বাইরেও প্রতিফলিত হবে। শরীর, পোশাক, অভ্যাস, বা মন কোথাও অপরিচ্ছন্নতা বাসা বাঁধতে দেবেন না। কারণ, এতে জীবাণুর আক্রমণের শিকার হতে পারেন আপনি।

প্রশান্তিঃ

তুচ্ছ বিষয়ে অধীর হওয়া ভাল নয়। যেসব বিষয় ক্ষুদ্র, সবসময় ঘটে বা এড়ানো যায় না সেসব বিষয় মেনে নিন। সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন। এতে আপনি দায়মুক্ত থাকতে পারবেন। অসুখী অনুভব করারও কারণ থাকবে না। যদি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তাতে অসুখী হওয়ার কিছু নেই। কারণ, এরচেয়ে ভাল কিছু অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।

 

আরো পড়ুনঃ হাল ছেড়ো না বন্ধু – একটি মোটিভেশনাল আর্টিকেল

 

শুদ্ধতাঃ

নিজের মনের শুদ্ধতা নিশ্চিত করুন। কারণ, শুদ্ধতা কেবল আরও শুদ্ধতাই এনে দেবে। অনেকেই আছেন যারা শারীরিক সম্পর্কে আসক্ত থাকেন। এর জন্য হয়ত খারাপ উপায় অবলম্বন করেন। শুদ্ধতা খর্ব হয়। আবার অনেকেই পর্নে আসক্ত থাকেন যা তাদের অনুৎপাদনশীল করে তোলে।

নম্রতাঃ

মহামানবদের জীবনী অনুসরণ করুন। তবে অনুকরণ করবেন না। তাঁরা যেভাবে সরল পন্থায় জীবন অতিবাহিত করে গেছেন, সেই পন্থা অনুসরণ করুন। এতে ঝামেলাহীনভাবে বেঁচে থাকা সহজ হবে। তবে তাঁদের সমাজব্যবস্থা আর আমাদের সমাজব্যবস্থা এক নয় বলেই কিছুটা পরিবর্তন থাকবে।

বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিন বলেছেন, একবারে যেকোনও একটা পন্থা নিয়ে কাজ করতে। তাহলে মনোযোগ দেয়া সহজ হবে। আর সাফল্য অর্জনও সহজ হবে। প্রথমে নিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো শনাক্ত করুন। এরপর, এই তেরটি নীতি পর্যবেক্ষণ করুন। যেগুলো আপনার চরিত্রে নেই, সেগুলো নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করুন যতক্ষণ না পর্যন্ত এগুলো আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়।


শেয়ার করুন

Leave a Comment