এই অমূল জীবন হেলায় হারাবেন না

শেয়ার করুন

জীবন নিয়ে আমাদের আক্ষেপের কোনো শেষ নেই। প্রতিনিয়ত হাজারো রকম অপ্রাপ্তির অভিযোগে বিদীর্ণ সময়। একবার ভেবে দেখুন, জীবনের জন্য কতোটুকু করেছেন আর বিনিময়ে কতোটুকু চাইছেন। চাওয়ার পাল্লা বেশ ভারী। এই ভারটুকু বইতে কিন্তু জীবনের বেশ কষ্ট হয়। তাও বইতে হয় আমৃত্যু।

জীবন ছোট বলেই মহান।’
– ডিজরেইলি

অথচ জীবনকে ভারমুক্ত করার চাবি আছে আমাদের হাতেই। হঠাৎ কোনো মৃত্যুর খবর শুনলে মন খারাপ হয়ে যায় আমাদের। প্রিয়জনের খবর হলে তো কথাই নেই। আমরাও একটু একটু করে এগোতে থাকি মৃত্যুর শীতল গহ্বরের দিকে। সুখগুলোকে সব বাক্সবন্দি করে অসুখগুলোকে ছেড়ে দেই। আর এই অসুখগুলোই কালসাপের মতো ছোবল মেরে আহত করে আমাদের। মরার আগেই বহুবার মরে যাই। পাঠক, দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেখুন, জীবনকে আর বোঝা মনে হবে না। মৃত্যুগুলো মনে করিয়ে দেবে সময় স্বল্পতার কথা। এই সময়টুকু কাজে লাগানোর কথা। আসুন সতর্ক হই, মরার আগেই না মরে যাই। জীবনকে পর্যাপ্ত মূল্য দিতে অনুসরণ করতে পারেন নিচের লেখাটুকু।

সময় নষ্ট করবেন নাঃ

Time is money.’ কথাটি নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন। আমি বলি, ‘Time is much more valuable than money.’ কারণ, টাকা উৎপাদন করা যায়, কিন্তু সময় নয়। প্রতিটা প্রয়াণ যেনো মনে করিয়ে দেয় জীবনের মূল্য। এটি যেনো জীবনের ধ্বংসের কারণ না হয়। এটি যেনো জীবনকে আবাদ করে। মৃত্যুর পরের জীবনে কী আছে কেউ জানে না। তাই এই জীবনেই বাঁচুন। মানুষ হবার উপহারটা উপভোগ করুন। কেউই চিরদিন বাঁচে না। সময় ফুরোয়, নক্ষত্রের বয়স বাড়ে। একসময় মরে যায়। অযথা সময় নষ্ট না করে একে কাজে লাগান।

কে জানে ‘কাল’ আসবে কিনাঃ

জীবন অনিশ্চিত। তাই বলে মন খারাপ করে বসে থাকা উচিত নয়। প্রতি মুহূর্তে বাঁচুন, হাসুন প্রাণ খুলে। যে ভবিষ্যতের জন্য বর্তমান নষ্ট হচ্ছে সেই ভবিষ্যত তো আপনার জীবনে নাও আসতে পারে। সেজন্য বর্তমানকে গুরুত্ব দিন। মানুষ তার কর্মের মাঝে বাঁচে বলেই কাজের প্রতি মনোযোগী হন। পৃথিবীকে ভালো কিছু দিয়ে যান। নেতিবাচক কাউকে কাছে ঘেঁষতে দেবেন না। এতে ভীরুতা গ্রাস করবে আপনাকে। ভয় নিয়ে বাঁচার কোনো মানে নেই। সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করুন প্রতিকূলতা। পৃথিবীকে জানিয়ে দিন যে আপনার অমিত সম্ভাবনা আর পরিশ্রমই সৃষ্টি করবে মাইলফলক।

 

আরো পড়ুনঃ বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিন এর জীবন বদলে দেয়া ১৩টি নীতি

 

প্রিয়জনদের নিয়ে কৃতজ্ঞ হনঃ

চোখ বন্ধ করুন, অনুভব করুন প্রিয় মানুষগুলোর ভালোবাসা। এই ভালোবাসার জন্যই মানুষ বেঁচে থাকে। প্রতিটা আন্তরিক অনুভূতির প্রতি কৃতজ্ঞ হন। আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। তাদেরকে খুশি হতে দিন। এরা আপনার জীবনের আশীর্বাদ। এরা কেবল আপনার ভালো থাকাটুকুই চায়, এর বেশি কিছু নয়। তাদের ভালোবাসুন, দেখবেন ভালোবাসা ফিরে আসছে দ্বিগুণ হয়ে।

খুঁতখুঁতে মনোভাব পরিহার করুনঃ

অযাচিত আর তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কতো সময় পার করে দেই আমরা। জীবন তো সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এই সম্পদকে দেখভাল না করলে তো অপচয় হবে। তুচ্ছ বিষয়গুলো এড়িয়ে চলে দেখুন সময় বেঁচে যাবে। এই বেঁচে যাওয়া সময়কে ফলবান করতে পারবেন আপনি। তুচ্ছ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবনা করলে একসময় তা অভ্যাসে পরিণত হবে।

জীবনেও এর থেকে বের হওয়া যাবে না তখন। এটা একটা দুষ্ট চক্রের মতো। মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দিতে পারে যে এসব বিষয় কতো অপ্রয়োজনীয় আর ক্ষতিকর। অযথা বিরক্ত হওয়া বন্ধ করুন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দিন। দেখুন ভাবনার জন্য কতো সুন্দর সুন্দর বিষয় আছে।

অপেক্ষা করবেন নাঃ

আমরা প্রায়শই কালকের জন্য অপেক্ষা করি। কিন্তু সবসময় কি এর দেখা পাওয়া যায়? সবাই কি দেখা পায়? পায় না। মৃত্যুর সাথেই কালের সমাপ্তি ঘটে। কোনো কাজ শুরু করতে দেরি করবেন না। পরিকল্পনা করে এগোন। মৃত্যু আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে শুরু করার এখনই উপযুক্ত সময়, কাল নয়।

যে স্বপ্নগুলো ভবিষ্যতের জন্য ফেলে রাখা হয় সেই স্বপ্ন তো পূরণ নাও হতে পারে, মৃত্যু এসে কেড়ে নিতে পারে সকল সম্ভাবনা। তাই যা করতে চান তা এখনই করুন। তবে ক্ষতিকর বিষয়গুলো এড়িয়ে চলুন। নিঃশ্বাস যখন নিচ্ছেন, তখন ভালো করেই নেয়া উচিত। মৃত্যুকে ভয় হিসেবে না দেখে বরং অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখুন। এটা ভাবুন যে প্রত্যেটা কাজই অর্থবহ এবং তা সাফল্যের কাছেই নিয়ে যাবে।

 

আরো পড়ুনঃ যে ৬টি কারণে আপনার প্যাশনকে প্রাধান্য দেবেন

 

সংযুক্ত করুনঃ

এসব পরামর্শ নিশ্চয়ই আগে থেকেই জানেন আপনি। বহুবার জেনেছেন হয়তো। কিন্তু প্রয়োগ করেন নি হয়তো। এবার এসব বাক্যগুলো নিজের চিন্তা ও কর্মের সাথে সম্পৃক্ত করুন। আপনার জীবনে যদি কোনো উদ্দেশ্য না থাকে তো এর কোনো মূল্যই নেই। উদ্দেশ্য খোঁজার চেষ্টা করুন। কাজ শুরু করুন। বাস্তবতা সফলতা নিয়ে আসবে।

মৃত্যু সংবাদ যেনো আপনাকে হতাশাগ্রস্ত না করে, বরং দায়িত্বগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। ভাবুন প্রিয়জন নিশ্চয়ই চায় আপনি জীবনকে সদ্ব্যবহার করবেন। তো তার মৃত্যুতে আপনি কী করবেন? জীবনকে নষ্ট হতে দেবেন না তার চাওয়া পূরণের কাজে পরিশ্রম করবেন? অবশ্যই দ্বিতীয় কাজটির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করবেন। প্রিয়জনের মৃত্যুকে জীবনের অংশ ভেবে এর থেকে অনুপ্রেরণা নিন। যাতে করে জীবনের মাঠটাকে একটা সুন্দর বাগানে পরিণত করতে পারেন।

পাঠক, এই লেখাটি আপনার জন্যই। এটা লেখার কারণ হিসেবে জীবনের অর্থময়তাকে চিহ্নিত করবো আমি। জীবনকে অমূল্য মনে হয় বলেই তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। অন্যকে সাহায্য করার মাধ্যমে সুন্দরভাবে বাঁচা যায়। মৃত্যুর যখন সময় হবে তখন আসবে। তার আগে চলুন কাজগুলো শেষ করে নেই, প্রাণভরে বেঁচে নেই, একে অর্থবহ করার চেষ্টায় রত হই, প্রদীপ্ত হই অফুরন্ত ভালোবাসায়!


শেয়ার করুন

Leave a Comment